প্রতিটি পুণ্যই দান-খয়রাত স্বরূপ

জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাত তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেনঃ প্রতিটি পুণ্যই দান-খয়রাত স্বরূপ। আপনার ভাইয়ের সাথে তোমার হাসিমুখে সাক্ষাত করুন এবং আপনার বালতি থেকে আপনার ভাইয়ের পাত্রে একটু পানি ঢেলে দেয়াও সৎ কাজের অন্তর্ভুক্ত (তিরমিযী শরীফ)।
হযরত সাইয়্যিদাতুনা উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা সিদ্দিকা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি নুরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উানার মুবারক সাক্ষাত প্রার্থনা করলো। তিনি বলেনঃ বংশের কু-সন্তান। সে তার সাক্ষাতে উপস্থিত হলে তিনি তার সাথে হাসিমুখে প্রশস্ত হৃদয়ে মিলিত হন। সে বের হয়ে যাওয়ার পর আর এক ব্যক্তি তাঁর সাক্ষাত প্রার্থনা করে। তিনি বলেনঃ বংশের সু-সন্তান। কিন্তু তিনি তার সাথে আগের ব্যক্তির মতো হাসিমুখে মিলিত হননি। এ ব্যক্তিও বের হয়ে চলে গেলে আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি অমুকের সম্পর্কে ঐরুপ মন্তব্য করলেন অথচ তার সাথে হাসিমুখে মিলিত হলেন এবং এই ব্যক্তি সম্পর্কে এরূপ মন্তব্য করলেন অথচ প্রথম ব্যক্তির মতো তার সাথে সাক্ষাত করেননি। তিনি বলেনঃ হে হযরত সিদ্দিকা আলাইহাস সালাম! যার অশ্লীল বাক্য ও দুর্ব্যবহারের জন্য লোকে তাকে ত্যাগ করে, সে হলো সর্বনিকৃষ্ট (বুখারী, মুসলিম)।
জাবের বিন আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনার থেকে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রসূল ছল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেছেন, “প্রত্যেক কল্যাণমূলক কর্মই হল সদকাহ (করার সমতুল্য)। আর তোমার ভাইয়ের সাথে তোমার হাসিমুখে সাক্ষাৎ করা এবং তোমার বালতির সাহায্যে (কুয়ো থেকে পানি তুলে) তোমার ভাইয়ের পাত্র (কলসী ইত্যাদি) ভরে দেওয়াও কল্যাণমূলক (সৎ)কর্মের পর্যায়ভুক্ত।” (আহমাদ ১৪৮৭৭, তিরমিয়ী, হাকেম, সহীহুল জামে’ ৪৫৫৫ নং)
হযরত সাইয়্যিদাতুনা উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা সিদ্দিকা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিতঃ
এক বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি কতক নারীকে অতিক্রম করে যাচ্ছিল। তাকে দেখে তারা বিদ্রুপাত্মক হাসি হাসলো। ফলে তাদের কেউ কেউ বিপদগ্রস্ত হলো। (তাবারী, তাবারানী, ইবনে আদী, বায়হাকীর শুআবুল ঈমান)
আবূ যার রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেনঃ ন্যায়সংগত ও কল্যাণকর কাজের কোন বিষয়কেই যেন তোমাদের কেউ তুচ্ছ মনে না করে। সে (ভাল করার মতো) কিছু না পেলে অন্তত তার ভাইয়ের সাথে যেন হাসিমুখে মিলিত হয়। তুমি গোশত কিনে তা অথবা অন্য কিছু রান্না করার সময় তাতে ঝোলের পরিমাণ বেশি রাখবে এবং তোমার প্রতিবেশীকেও তা হতে এক আঁজলা দিবে।

সহীহ্‌, মুসলিম (৮/৩৭), পৃথকভাবে, সহীহা (১৩৬৮), তা’লীকুর রাগীব (৩/২৬৪)
আবূ যার রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেনঃ তোমার ভাইয়ের সামনে হাসি মুখে আগমন করা সদাক্বাহ্, নেক কাজ নির্দেশ, খারাপ কথাবার্তা হতে বিরত থাকা তোমার জন্য সদাক্বাহ‌, পথহারা প্রান্তরে কোন মানুষকে পথ বলে দেয়া, কোন অন্ধ বা দুর্বল দৃষ্টিশক্তির মানুষকে সাহায্য করা সদাক্বাহ্, পথের কাঁটা বা হাড় সরিয়ে দেয়া, নিজের বালতি থেকে অন্য কোন ভাইয়ের বালতিতে পানি দিয়ে ভরে দেয়া তোমার জন্য সাদাক্বাহ‌্। (তিরমিযী; তিনি বলেন, এ হাদীসটি গারীব) [১]
[১] সহীহ : আত্ তিরমিযী ১৯৫৬, সিলসিলাহ্ আস্ সহীহাহ্ ৫৭২, সহীহ আত্ তারগীব ২৬৮৫, সহীহ আল জামি‘ ২৯০৮।
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লা্হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেনঃ যে লোক আল্লাহ্‌ তা‘আলার সন্তুষ্টি হাসিলের আশায় কোন অসুস্থ লোককে দেখতে যায় অথবা নিজের ভাইয়ের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করতে যায়, একজন ঘোষক (ফেরেশতা) তাকে ডেকে বলতে থাকেনঃ কল্যাণময় তোমার জীবন, কল্যাণময় তোমার এই পথ চলাও। তুমি তো জান্নাতের মধ্যে একটি বাসস্থান নির্দিষ্ট করে নিলে।

হাসান, মিশকাত (৫০১৫)।
Share on Google Plus

About শায়েখ আব্দুল্লাহ আল আযহার মাদানী

0 comments:

Post a Comment